হিয়েরোগ্লিফিক্স প্রতীকের অর্থ অনুসন্ধান
প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার ৩,০০০ বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং আধ্যাত্মিক দর্শনের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম ছিল হিয়েরোগ্লিফিক লিখন পদ্ধতি । মিশরীয়রা এই লিপিকে "মেদু নেতজের" (medu netjer) বা "ঈশ্বরের বাণী" হিসেবে অভিহিত করত এবং তাদের বিশ্বাস ছিল যে জ্ঞানের দেবতা থোথ এই পবিত্র লিপির স্রষ্টা । খ্রিস্টপূর্ব ৩২০০ অব্দের দিকে প্রাক-রাজবংশীয় যুগে (নাকাদা ৩ পর্ব) পাথরের গায়ে খোদাই করা আদিম চিত্রলিপি থেকে এই লিখন পদ্ধতির আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে । স্মারক সৌধ, রাজকীয় সমাধি এবং মন্দিরের দেয়ালে খোদাই করা এই আলংকারিক লিপির সমান্তরালে কালক্রমে প্যাপিরাসে লেখার জন্য পুরোহিতদের ব্যবহৃত ঈষৎ টানা রূপ "হায়ারেটিক" (Hieratic) এবং পরবর্তীতে প্রাত্যহিক ব্যবসায়িক ও সাধারণ ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত জটিল ও টানা রূপ "ডেমোটিক" (Demotic) লিপির বিকাশ ঘটে । হিয়েরোগ্লিফিক্সের প্রতিটি প্রতীকের অর্থ এবং তাদের ব্যাকরণগত প্রয়োগের রহস্য উন্মোচন করতে হলে এর কাঠামোগত শ্রেণীবিভাগ, ধ্বনিগত বিন্যাস এবং আধ্যাত্মিক প্রতীকায়নের পদ্ধতিগত বিশ্লেষণ আবশ্যক।
মিশরীয় হিয়েরোগ্লিফিক লিপি কোনো সাধারণ বর্ণমালা নয়, বরং এটি চিত্রলিপি (icon) এবং প্রতীকী চিহ্নের (symbol) এক অত্যন্ত জটিল জ্যামিতিক ও নান্দনিক সমন্বয় । এই লিপিতে ব্যবহৃত প্রতীকগুলোকে মূলত তিনটি প্রধান শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয় :
১. লোগোগ্রাম বা শব্দ-প্রতীক (Logograms): এগুলো এমন প্রতীক যা সরাসরি নির্দিষ্ট কোনো বাস্তব বস্তু বা ধারণাকে চিত্রিত করে এবং সেই বস্তু বা ধারণারই প্রতিনিধিত্ব করে । কোনো প্রতীক যখন লোগোগ্রাম হিসেবে ব্যবহৃত হতো, তখন সেটির নিচে সাধারণত একটি উল্লম্ব রেখা (।) টানা থাকত, যা নির্দেশ করত যে প্রতীকটির কেবল সরাসরি অর্থই গ্রহণযোগ্য, কোনো ধ্বনিগত মান নয় । উদাহরণস্বরূপ, একটি মুখের ছবি নিচে উল্লম্ব রেখাসহ থাকলে তা সরাসরি মানুষের "মুখ" বোঝাত ।
২. ফোনোগ্রাম বা ধ্বনি-প্রতীক (Phonograms): এই প্রতীকগুলোর নিজস্ব কোনো দৃশ্যমান অর্থ তাৎপর্যপূর্ণ নয়, বরং এগুলো এক বা একাধিক ব্যঞ্জনধ্বনির প্রতিনিধিত্ব করে । সেমেটিক লিপিগুলোর মতো মিশরীয় হিয়েরোগ্লিফিক্সেও কোনো স্বরবর্ণ লেখা হতো না, কেবল ব্যঞ্জনবর্ণের ব্যবহার ছিল । ব্যঞ্জনধ্বনির সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে ফোনোগ্রামকে ইউনিলেটারাল (একক ব্যঞ্জন), বাইলেটারাল (দ্বি-ব্যঞ্জন) এবং ট্রাইলেটারাল (ত্রি-ব্যঞ্জন) প্রতীকে ভাগ করা হয় ।
৩. ডিটারমিনেটিভ বা অর্থ-নির্ধারক চিহ্ন (Determinatives): এই প্রতীকগুলোর কোনো নিজস্ব ধ্বনিগত মান বা উচ্চারণ নেই, তাই লিপ্যন্তরের সময় এগুলোকে বাদ দেওয়া হয় । এগুলো মূলত শব্দের শেষে বসে সেই শব্দের সাধারণ অর্থ বা শ্রেণীকে স্পষ্ট করে । যেহেতু লিপিতে স্বরবর্ণ অনুপস্থিত থাকত, তাই একই ব্যঞ্জনবর্ণের সমন্বয়ে গঠিত বিভিন্ন শব্দের মধ্যকার বিভ্রান্তি দূর করতে ডিটারমিনেটিভ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত ।
ইউনিলেটারাল প্রতীকসমূহ এবং তাদের ধ্বনিগত ও দৃশ্যমান অর্থ
মিশরীয় হিয়েরোগ্লিফিক্সের বর্ণমালাভিত্তিক কাঠামোর সবচেয়ে মৌলিক উপাদান হলো ২৪টি ইউনিলেটারাল বা একক-ব্যঞ্জন বিশিষ্ট চিহ্ন । এগুলো মূলত একটি নির্দিষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনির প্রতিনিধিত্ব করে এবং প্রাচীন রাজবংশীয় বা টলেমি যুগে রাজকীয় নাম বা বিদেশী শব্দ বানান করে লেখার জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো ।
বাইলেটারাল ও ট্রাইলেটারাল প্রতীকসমূহের কার্যকারিতা এবং অর্থ
মিশরীয় হিয়েরোগ্লিফিকের জটিলতম স্তরটি গঠিত হয়েছে বাইলেটারাল (দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি বিশিষ্ট) এবং ট্রাইলেটারাল (তিনটি ব্যঞ্জনধ্বনি বিশিষ্ট) প্রতীকসমূহের মাধ্যমে । এই প্রতীকগুলো ব্যবহারের সময় লিপিকাররা প্রায়শই "ধ্বনিগত পরিপূরক" (phonetic complements) ব্যবহার করতেন । এগুলো হলো এমন কিছু ইউনিলেটারাল চিহ্ন যা মূল বহুব্যঞ্জন বিশিষ্ট চিহ্নের পাশে বসে কেবল তার উচ্চারণকে সুনির্দিষ্ট করতে সাহায্য করত, নতুন কোনো ধ্বনি তৈরি করত না ।
থিম্যাটিক ক্যাটাগরি এবং বাস্তবভিত্তিক চিহ্নের অর্থ বিশ্লেষণ
মিশরীয় লিপির শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অভিধান সংকলনের সুবিধার্থে ব্রিটিশ মিশরীয়বিদ স্যার অ্যালান এইচ. গার্ডিনার হিয়েরোগ্লিফিক প্রতীকগুলোকে ২৬টি থিম্যাটিক বা বিষয়ভিত্তিক ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করেন । এর মধ্যে মানুষের বিভিন্ন অবস্থা, পেশা এবং দেব-দেবীর প্রতীকসমূহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।
গার্ডিনার কোডহিয়েরোগ্লিফিক প্রতীকচিত্রিত বিষয় ও বর্ণনাভাষারূপ ও প্রতীকী অর্থতথ্যসূত্রA1𓀀উপবিষ্ট পুরুষ
প্রথম পুরুষ একবচন সর্বনাম (আমি, আমাকে, আমার); পুরুষবাচক বিশেষণের ডিটারমিনেটিভ ।
A2𓀁মুখের কাছে হাত নেওয়া পুরুষ
খাওয়া, পান করা, কথা বলা, চিন্তা করা বা নীরব থাকার ডিটারমিনেটিভ ।
A6𓀆জলের পাত্রের নিচে উপবিষ্ট পুরুষ
পবিত্রতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা শোধন প্রক্রিয়া (wꜤb) ।
A9𓀋মাথায় ঝুড়ি নেওয়া পুরুষ
দৈহিক শ্রম, বহন করা, মালামাল বোঝাই করা বা কাজ (kꜣt, ꜣtp) ।
A12𓀎ধনুক ও তূণীরধারী যোদ্ধা
সৈন্য, সেনাবাহিনী বা সশস্ত্র অভিযান (mnfyt, msˇꜥ) ।
A17𓀔মুখের কাছে হাত রাখা শিশু
শৈশব, অল্পবয়স, অনাথ বা বংশধর (sˇrj, ẖrd, ms) ।
A19𓀗লাঠিতে ভর দেওয়া কুঁজো বৃদ্ধ
বার্ধক্য, দুর্বলতা, অভিজ্ঞতা বা জ্ঞানবৃদ্ধ ব্যক্তি (jꜣw, smsw) ।
A35𓀨দেয়াল নির্মাণে লিপ্ত রাজমিস্ত্রী
নির্মাণ করা, গড়ে তোলা বা রাজমিস্ত্রীর কাজ (qd) ।
A53𓀾দণ্ডায়মান মমি
মৃতদেহ, মূর্তি, অবয়ব বা সাদৃশ্য (twt - যেমন তুতানখামুন) ।
B1𓁐উপবিষ্ট নারী
প্রথম পুরুষ একবচন নারীবাচক সর্বনাম; নারীবাচক নামের ডিটারমিনেটিভ ।
B3𓁒প্রসবকালীন উপবিষ্ট নারী
জন্ম দেওয়া, প্রসব করা বা বংশবৃদ্ধি (msj) ।
C1𓁚সূর্যমণ্ডল মাথায় উপবিষ্ট দেবতা
সূর্য দেবতা রা (rꜤ)-এর নাম ও তার ঐশ্বরিক রূপ ।
C3𓁟ইবিস পাখির মাথাযুক্ত উপবিষ্ট দেবতা
জ্ঞানের দেবতা থোথ (ḏḥwty)-এর প্রতীক ।
অর্থ নির্ধারণের জাদুকরী কৌশল: ডিটারমিনেটিভ এবং অর্থ-বিভাজন
মিশরীয় হিয়েরোগ্লিফিক্সে স্বরবর্ণের অনুপস্থিতি এবং একই ব্যঞ্জনবর্ণের পুনরাবৃত্তির কারণে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূরীকরণে ডিটারমিনেটিভ বা অর্থ-নির্ধারক প্রতীকগুলো অলৌকিক চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করত । শব্দার্থের এই সূক্ষ্মতম পার্থক্য বোঝার জন্য দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভাষাতাত্ত্বিক দৃষ্টান্ত বিশ্লেষণ করা যায়:
১. 'হডি' (hD) ব্যঞ্জন-সমষ্টির দ্ব্যর্থতা নিরসন
প্রাচীন মিশরীয় লিপিতে "হডি" (hD) ব্যঞ্জন-সমষ্টিটি একই সাথে 'রৌপ্য' এবং 'সাদা রঙ'—এই দুটি ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করতে পারত । এই দ্ব্যর্থতা দূর করতে লিপিকাররা ভিন্ন ভিন্ন ডিটারমিনেটিভ প্রতীক যুক্ত করতেন :
রৌপ্য (Silver): রৌপ্যকে মিশরীয়রা "সাদা সোনা" বলত । তাই রৌপ্য বোঝাতে তারা "হডি" ব্যঞ্জনগুলোর শেষে একটি মূল্যবান অলঙ্কারের কলার (collar necklace) এবং খনিজ পদার্থের নির্দেশক হিসেবে তিনটি বালুকণা যুক্ত করত ।
সাদা রঙ (White): কেবল শুভ্র বা সাদা রঙ নির্দেশ করতে তারা শব্দের শেষে একটি সূর্যের প্রতীক যুক্ত করত, যা আলোর বিশুদ্ধতাকে বোঝাত । এখানে ব্যবহৃত সাপের প্রতীকটি ছিল কেবল "ডি" (dj) ধ্বনির পরিপূরক ।
২. 'ইয়াহু' (iAw) শব্দের অর্থগত বৈচিত্র্য
অনুরূপভাবে, "ইয়াহু" (iAw) শব্দটির দ্বারা একই সাথে 'বার্ধক্য' এবং 'প্রশংসা করা' বা 'স্তুতি'—এই দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত অর্থ প্রকাশ করা সম্ভব ছিল । লিপিকাররা অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ডিটারমিনেটিভের মাধ্যমে শব্দ দুটির উদ্দেশ্য স্পষ্ট করতেন :
বার্ধক্য (Old): বার্ধক্য বা জরাজীর্ণ অবস্থা নির্দেশ করতে শব্দের শেষে লাঠিতে ভর দিয়ে থাকা একজন জবুথবু বৃদ্ধ মানুষের প্রতীক (𓀗) যুক্ত করা হতো ।
প্রশংসা বা স্তুতি (Praise): ঈশ্বরের বন্দনা বা প্রশংসা প্রকাশ করতে একই শব্দের শেষে দুই হাত উপরে তুলে আরাধনারত মানুষের প্রতীক (𓀃) যুক্ত করা হতো ।
সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক প্রতীকসমূহের নিগূঢ় অর্থ
মিশরীয়দের ধর্মীয় বিশ্বাস, জাগতিক জীবন এবং পরলৌকিক মুক্তির মূল চালিকাশক্তি ছিল কিছু বিশেষ মহাজাগতিক ও সুরক্ষামূলক প্রতীক । এই প্রতীকগুলো একই সাথে শিল্পকর্ম, লেখার অক্ষর এবং জাদুকরী কবচ বা তাবিজ (amulet) হিসেবে ব্যবহৃত হতো :
১. আঁখ (Ankh - 𓋹): জীবনের চাবিকাঠি
আঁখ হলো একটি ক্রস বা ক্রুশ যার ওপর একটি লুপ বা ফাঁশ রয়েছে, যার কোনো আদি বা অন্ত নেই । আদি রাজবংশীয় যুগে এটি দেবী আইসিসের পবিত্র গিঁটের সাথে সম্পর্কিত ছিল । আধ্যাত্মিকভাবে এটি অনন্ত জীবন, উর্বরতা, নর-নারীর পরম মিলন এবং পরলোকের দ্বার উন্মোচনকারী চাবি হিসেবে বিবেচিত হতো । দেব-দেবী ও ফারাওদের হাতে সর্বদাই আঁখ প্রতীকটি দেখা যেত, যা সাধারণ মানুষের কাছে ঐশ্বরিক সুরক্ষার সর্বোচ্চ চিহ্ন ছিল ।
২. জেড স্তম্ভ (Djed - 𓊽): স্থায়িত্বের মেরুদণ্ড
জেড স্তম্ভ মূলত চারটি আনুভূমিক স্তর বিশিষ্ট একটি স্তম্ভ, যা পাতাললোকের দেবতা ওসাইরিসের মেরুদণ্ডকে নির্দেশ করে । ওল্ড কিংডমের সময় থেকে এই প্রতীকটি শক্তি, স্থায়িত্ব এবং পুনরুত্থানের মহাজাগতিক ভিত্তি হিসেবে মন্দিরের দেয়ালে খোদাই করা হতো । মৃত ব্যক্তির কফিনের নিচের অংশে এই প্রতীকটি এঁকে দেওয়া হতো যাতে মৃত ব্যক্তি পরলোকে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা পায় ।
৩. হরাসের চোখ (Wadjet/Udjat - 𓁹): পরম নিরাময়কারী শক্তি
বাজপাখির মতো তীব্র চোখের এই প্রতীকটি দেবতা হরাসের বাম চোখের প্রতিনিধিত্ব করে, যা দেবতা সেটের সাথে মহাযুদ্ধে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে গিয়েছিল এবং পরবর্তীতে জাদুর দেবতা থোথ এটিকে পুনরায় সুস্থ করে তোলেন । এটি মহাজাগতিক নিরাময়, সুরক্ষা, রাজকীয় ক্ষমতা এবং চন্দ্রের ক্ষয় ও বৃদ্ধির চক্রকে চিহ্নিত করে । সমুদ্রযাত্রার সময় ঝড়-ঝাপটা থেকে বাঁচতে প্রাচীন নাবিকরা তাদের নৌকার গায়ে হরাসের চোখ এঁকে রাখতেন ।
৪. স্কারাব পোকা (Scarab - 𓆣): রূপান্তর ও সৃষ্টি
গোবরে পোকা ডিম পেড়ে গোবরের দলা যেভাবে গড়িয়ে নিয়ে যায়, তা দেখে মিশরীয়রা সূর্যের কক্ষপথের পরিক্রমা এবং শূন্য থেকে জীবনের সৃষ্টির ধারণা লাভ করেছিল । এটি সূর্য দেবতা খেপরির রূপক । মৃত ব্যক্তির মমিকরণের সময় তার হৃদপিণ্ডের ওপর একটি সবুজ রঙের পাথর দিয়ে তৈরি স্কারাব কবচ বসানো হতো, যা পুনর্জন্ম এবং বিচারালয়ে পাপমুক্তির প্রতীক ছিল ।
৫. টাইয়েট বা আইসিসের গিঁট (Tyet/Isis Knot - 𓎡)
টাইয়েট গিঁটটির গঠন অনেকটা আঁখ চিহ্নের মতো, তবে এর দুই পাশের বাহু নিচের দিকে বাঁকানো থাকে । এটিকে "আইসিসের রক্ত" (Blood of Isis) বা দেবীর জাদুকরী ও মাতৃত্বকালীন সুরক্ষার প্রতীক মনে করা হতো । পরলোকে মৃত ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য নিউ কিংডম পর্ব থেকে লাল জ্যাসপার পাথরের তৈরি টাইয়েট কবচ মমির গলায় পরিয়ে দেওয়া হতো ।
৬. ওয়াস রাজদণ্ড (Was - 𓌀)
সোজা দণ্ড বিশিষ্ট এবং মাথায় এক কাল্পনিক পশুর (সম্ভবত শিয়াল বা কুকুরের) অবয়বযুক্ত এই রাজদণ্ডটি দেবতাদের সার্বভৌম ক্ষমতা এবং আধিপত্যের প্রতীক ছিল । ফারাওদের রাজকীয় সমৃদ্ধি এবং শাসনক্ষমতার নিরবচ্ছিন্ন ধারা বজায় রাখতে রাজদণ্ডটি ব্যবহৃত হতো । দেবতা পতাহ-এর হাতে জীবন (আঁখ), স্থায়িত্ব (জেড) এবং ক্ষমতার (ওয়াস) একীভূত রূপ দেখা যেত ।
৭. মাআতের পালক (Feather of Ma'at - df)
আইন, সত্য ও মহাজাগতিক শৃঙ্খলা দেবী মাআতের মাথায় গোঁজা উটপাখির পালকটি ছিল ন্যায়বিচারের প্রতীক । মৃত্যুর পর বিচারালয়ে মৃত মানুষের হৃদপিণ্ডটিকে তুলাদণ্ডের একপাশে রেখে অন্যপাশে এই পালকটি রাখা হতো । হৃদপিণ্ডের ওজন যদি পালকের সমান বা কম হতো, তবেই সেই আত্মাকে নিষ্পাপ ও পুণ্যবান হিসেবে স্বর্গীয় নন্দনকানন "আরু" (Aaru)-তে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতো ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Don't forget to like, comment, share and subscribe to my Blog. Thank you.