শুক্রবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১

দেখা । দিনলিপির পাতা ।

                           দেখা 

 

         ফেলুদা সিধু জ্যাঠাকে বলেছিল , আপনি গোয়েন্দাগিরি করলে আমাদের ভাত মারা যেত । উত্তরে সিধু জ্যাঠা বলেছিলেন – আমি অনেক কিছু করলেই , অনেকের ভাত মারা যেত ফেলু , তাই শুধু মনের দরজা-জানলাগুলো খুলে বসে থাকি । মনের দরজা – জানলাগুলো একটু ফাঁক করে রাখলেই মাঝেমধ্যে এমন সব অভিজ্ঞতা হয় যা চেতনাকে রীতিমত ঝাঁকুনি দিয়ে যায় । মূল ঘটনায় যাওয়ার আগে একটা দৃষ্টান্ত দিই । ‘প্রাক্তন’ ছবিটা আমরা অনেকেই দেখেছি । এখানে অপরাজিত আঢ্য অভিনীত চরিত্রটি এমনভাবে আঁকা হয়েছে যাকে আপাতদৃষ্টিতে তুলনায় স্বল্প শিক্ষিত , জোরে জোরে এবং বেশি কথা বলা এমন একজন বিরক্তিকর মহিলা বলে মনে হয় , যার বুদ্ধিতে কিছু ঘাটতি রয়ে গেছে । অথচ ঠিক সময়ে সে নিজেই বুঝতে পারে তাঁর স্বামীর প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গেই সে ট্রেনযাত্রায় মিতালি পাতিয়েছে । ট্রেন থেকে নেমে যাওয়ার আগে প্রাক্তন স্ত্রী, বর্তমান স্ত্রীর ঠিকানাটা চায় বন্ধুত্বের স্মারক হিসেবে উপহার পাঠানোর জন্য । বর্তমান স্ত্রী অপরাজিতা আলতো করে , প্রাক্তন স্ত্রীর গালে হাত বুলিয়ে বলেন – তুমি তো আমাকে , তোমার জীবনের সেরা গিফটটা দিয়েই দিয়েছ দিদিভাই , আমার স্বামী ! প্রাক্তন স্ত্রী হাঁ , দর্শক হাঁ , পরিচালকদ্বয়ের মাস্টারস্ট্রোক এবং অপরাজিতার অসাধারণ অভিনয়ে, কিস্তি এবং মাত ! কাজেই কে আসলে কী, সহজে বোঝা সহজ নয় ।    

         এক ব্যাঙ্ক পিয়নের সঙ্গে পরিচয় আছে । তাঁকে ফোন করে জানতে চাইলাম , কাল কি ব্যাঙ্ক বন্ধ নাকি গো ? – কেন ? রাজ্য সরকার দেখলাম পয়লা জুলাই ছুটি ঘোষণা করেছে । -- কিসের ? ডক্টরস ডে । --- আমরা ডক্টর থোরি না আছি । তাহলে ব্যাঙ্ক খোলা ? – হ্যাঁ ,হ্যাঁ খোলা । এবার আসল গল্প । আমি ফোন করতেই কোভিড বাণীর পরে কলার টিউন বাজা শুরু হল – “অ্যাই ছেলেটা , নাম কী তোর ? আমি বললাম – ফুসমন্তর ।“ ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায় জয় গোস্বামীর ‘মেঘবালিকার জন্য রূপকথা’ । আমি হাঁ ! সত্যি কথা বলতে কী , কি বলব সেটাই গুলিয়ে গিয়েছিল কিছুক্ষণের জন্য । শিখলাম , মুখের ভাষা দিয়ে রুচির বিচার করতে নেই , পেশা , সামাজিক অবস্থান দিয়েও না । হয়ত ওই লাইনদুটোই ওর ভাল লেগেছে । কিন্তু সেই ভাল লাগাটুকুর জন্যও একটা সংবেদনশীল মন তৈরি থাকা দরকার । অথচ আপাতদৃষ্টিতে ওই পিয়নকে দেখে কিন্তু এটা বোঝার উপায় নেই । আমরা একজন মানুষকে দেখে তাঁর পছন্দ-অপছন্দ কেমন হতে পারে , বুদ্ধিসুদ্ধি , বিচার-বিবেচনা , বিচক্ষণতা কেমন হতে পারে সেই ব্যাপারে মনে মনে একটা ধারণা তৈরি করে ফেলি । বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেটা মিলেও যায় । এক উচ্চপদস্থ সাংবাদিক দাদাকে চিনি , গত ষোল বছর ধরে যাঁর কলার টিউন বেঠোফেনের একটা সিম্ফনি । কিন্তু আজকের ঘটনায়, আমার মনের অবচেতনে আগে থেকে সেই পিয়ন সম্বন্ধে তৈরি হয়ে থাকা ধারণাটাতো মিলল না । এটা আমার কাছে একটা বড় শিক্ষা । বাবা বলতেন , খবরের কাগজ , পত্রপত্রিকার চিঠিগুলো অবশ্যই পড়বি । দেখবি , কত অজ পাড়া-গাঁ থেকে কেমন তথ্যসমৃদ্ধ সব চিঠি আসে । সত্যিই তাই । আমি কোনওদিন গ্রামে থাকিনি । কিন্তু খবরের কাগজ ও পত্রিকার চিঠি পড়ে আমার মনে গ্রাম সম্পর্কে আগে থেকে তৈরি হয়ে থাকা অনেক ধারণা পাল্টেছে ।

          ক্লাস সিক্সে আমাদের একটা ইংরেজি গদ্য পাঠ্য ছিল – ‘রাইট জাজমেন্ট’ । সঙ্গে একটা ছবি , অর্ধেকটা জলে ভরা একটা কাচের পাত্রের মধ্যে একটা কাচের দণ্ড ডোবানো । বাইরে থেকে দণ্ডের ডোবানো অংশটা দেখতে বাঁকা লাগছে , কিন্তু আসলে সেটা দেখার ভুল । এভাবে দণ্ডটাকে দেখে সেটা আদতে বাঁকা ভাবা সঠিক বিচার নয় , রাইট জাজমেন্ট নয় । সঠিকভাবে দেখতে হলে দণ্ডটাকে জল থেকে তুলে চোখের সামনে আনতে হবে । পরে জেনেছি বিজ্ঞানের পরিভাষায় এই ঘটনাকে প্রতিসরণ(Refraction) বলে । ছোটবেলার অনেক শিক্ষা বড় হয়ে হঠাৎ করে কাজে লেগে যায় । আজকের ঘটনা আমাকে বলছে --- “দেখো রে , নয়ন মেলে , জগতের কী বাহার !”    


  

sankhamanigoswami.blogspot.com


দিনলিপি

দিনলিপি রচনা

দিনলিপি লিখন

দিনলিপি কাকে বলে


দিনলিপি অর্থ

দিনলিপি কি

দিনলিপি মানে কি

diary

diary writing

diary meaning

open diary

diary entry







কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Don't forget to like, comment, share and subscribe to my Blog. Thank you.

হুগলির গুপ্তিপাড়া রথযাত্রা ও ‘ভাণ্ডার লুট’-এর রোমাঞ্চকর ইতিহাস

  পুরীর পরেই যার স্থান: হুগলির গুপ্তিপাড়া রথযাত্রা ও ‘ভাণ্ডার লুট’-এর রোমাঞ্চকর ইতিহাস বাংলার লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য পীঠস্থান হুগলি...