শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬

পলাশির যুদ্ধ। পলাশি দিবস ।২৩ জুন

 



ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

২৩ জুন — এই তারিখটি বাংলার ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়ের স্মারক। ১৭৫৭ সালের এই দিনে ভাগীরথী নদীর তীরে, নদিয়া জেলার পলাশির আমবাগানে সংঘটিত হয়েছিল এক ঐতিহাসিক যুদ্ধ — পলাশির যুদ্ধ। এই যুদ্ধের পরিণামেই ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনা হয়, এবং বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়। যুদ্ধের পটভূমি বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্রমবর্ধমান ক্ষমতার বিরুদ্ধে। কোম্পানি কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের অননুমোদিত সম্প্রসারণ ও বাণিজ্যিক সুবিধার অপব্যবহার করছিল। সিরাজ তাদের সতর্ক করেও ফল না পেয়ে ১৭৫৬ সালে কলকাতা অধিকার করেন। এরপর ব্রিটিশ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভ কলকাতা পুনরুদ্ধার করেন এবং চূড়ান্ত সংঘাতের মঞ্চ প্রস্তুত হতে থাকে। ষড়যন্ত্রের জাল পলাশির যুদ্ধ শুধু একটি সামরিক যুদ্ধ ছিল না — এটি ছিল বিশ্বাসঘাতকতার এক জঘন্য পরিণতি। ষড়যন্ত্রকারী ভূমিকা মীর জাফর সেনাপ্রধান; ব্রিটিশদের সাথে গোপন চুক্তি করেন। জগৎ শেঠ---বাংলার ধনকুবের; ষড়যন্ত্রে অর্থায়ন উমিচাঁদ---দালাল হিসেবে মধ্যস্থতা করেন। রায়দুর্লভ---যুদ্ধে নিষ্ক্রিয় থাকেন রবার্ট ক্লাইভ মীর জাফরকে নবাব করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই ষড়যন্ত্র পাকাপোক্ত করেন। যুদ্ধের দিন — ২৩ জুন, ১৭৫৭ সিরাজের প্রায় ৫০,০০০ সৈন্য এবং ক্লাইভের মাত্র ৩,০০০ সৈন্য। সংখ্যায় বিশাল পার্থক্য থাকলেও যুদ্ধের ফলাফল ছিল উল্টো। মীর জাফরের বিশাল বাহিনী যুদ্ধে অংশ নেয়নি। সেনাপতি মোহনলাল বীরত্বের সাথে লড়েছিলেন, কিন্তু একা কতক্ষণ? মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সিরাজের পরাজয় নিশ্চিত হয়। পরাজিত সিরাজ পালিয়ে গেলেও ধরা পড়েন এবং নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পলাশির পরিণতি পলাশির যুদ্ধের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী ও বিপর্যয়কর: মীর জাফর নামেমাত্র নবাব হন; প্রকৃত ক্ষমতা চলে যায় ব্রিটিশদের হাতে। বাংলার রাজকোষ লুট হয়ে যায়। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ধীরে ধীরে সমগ্র ভারত গ্রাস করে। দীর্ঘ ১৯০ বছরের ঔপনিবেশিক শাসন শুরু হয়। পলাশি দিবসের তাৎপর্য প্রতি বছর ২৩ জুন পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে পলাশি দিবস পালিত হয়। এটি শুধু শোকের দিন নয় — এটি শিক্ষার দিন: ঐক্যহীনতা, বিশ্বাসঘাতকতা এবং সুবিধাবাদ কীভাবে একটি জাতির স্বাধীনতাকে ধ্বংস করে — পলাশি সেই চিরন্তন পাঠ বহন করে। পলাশির আমবাগানে আজও একটি স্মৃতিসৌধ দাঁড়িয়ে আছে সেই বেদনাময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে। উপসংহার পলাশির যুদ্ধ কেবল একটি সামরিক পরাজয় নয় — এটি বাংলার আত্মার পরাজয়। তবে এই পরাজয়ই পরবর্তীকালে স্বাধীনতার চেতনাকে জ্বালিয়ে রেখেছে — ক্ষুদিরাম থেকে নেতাজি, তিতুমীর থেকে মুক্তিযুদ্ধ — সবকিছুর মূলে আছে পলাশির সেই অপমানের স্মৃতি। আগামীকাল ২৩ জুন — ২৬৯তম পলাশি দিবস। ইতিহাসের এই পাঠ যেন আমরা কখনো ভুলে না যাই।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Don't forget to like, comment, share and subscribe to my Blog. Thank you.

ভূতের গল্প - গাছতলার মেয়েটি

  গাছতলার মেয়েটি আমার নাম নির্মল বসু। বয়স এখন সাতষট্টি। চাকরি করতাম স্কুলে, অঙ্ক পড়াতাম। এই গল্পটা যা বলব, তা আমার নিজের জীবনে ঘটা। কারও...